লক্ষ্মীপুরের রায়পুর সরকারি হাসপাতালের ভর্তি রোগীদের সাথে স্বাস্থ্যকর্মী মায়ার প্রতারনা

ANTV > Uncategorized > লক্ষ্মীপুরের রায়পুর সরকারি হাসপাতালের ভর্তি রোগীদের সাথে স্বাস্থ্যকর্মী মায়ার প্রতারনা
লক্ষ্মীপুরের রায়পুর সরকারি হাসপাতালের ভর্তি রোগীদের সাথে স্বাস্থ্যকর্মী মায়ার প্রতারনা

স্টাফ রিপোর্টার-লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে রফিকুল ইসলাম (৩০) নামের এক শারিরীক প্রতিবন্ধীর স্ত্রীকে সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা না দিয়ে স্বাস্থ্যকর্মী মরিয়ম বেগম মায়া নিজ বাসায় অর্থের বিনিময়ে চিকিৎসা দেওয়ার ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে বলে জানা যায়।

সরজমিনে গিয়ে জানাযায় গত ৮ আগষ্ট বৃহষ্পতিবার গভীর রাতে উপজেলা কৃষি কার্যালয়ের পিছনে মরিয়ম বেগম মায়া নামে স্বাস্থ্য কর্মীর নিজ বাসায় ওষুধ, স্যালাইন না দিয়ে স্বাভাবিক প্রসব করিয়ে ৭ হাজার টাকা অনৈতিক ভাবে হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনায় সাংবাদিকদের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিচার চেয়ে তার টাকা ফেরত চেয়েছেন প্রতিবন্ধী স্বামী রফিকুল । শনিবার সকালে প্রতিবন্ধী রফিকুল ইসলাম বলেন, ১০নং রায়পুর ইউনিয়ন পরিষদের সামনে চা দোকান দিয়ে কোন রকমে দিনাতীপাত করছি। তিনি আরো বলেন প্রায় দেড় বছর আগে বিয়ে করেছি,এরই মাঝে স্ত্রী শিউলি আক্তার গর্ভবতী হন। সরকারি ভাবে হাসপাতাল থেকে সুবিধা পাওয়ার জন্য হলুদ কার্ডও করা হয়। স্ত্রীর যথাসময়ে প্রসব ব্যাথা উঠলে বৃহস্পতিবার সকালে ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকর্মী শাহিনুরের পরামর্শে রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান। এ সময় দেখা হয় হাসপাতালের স্বাস্থ্য কর্মী মরিয়ম বেগমের (মায়া) সাথে। সে কৌশলে রফিকুল ইসলামকে পরামর্শ দেন তার স্ত্রীকে নিয়ে মরিয়মের বাসায় নিয়ে যেতে। এ সময় কিংকর্তব্যবিমুঢ় হয়ে রফিকুল তার স্ত্রীকে নিয়ে স্বাস্থ্য কর্মীর বাসায় যান। রাত সাড়ে ৩টায় স্বাভাবিক প্রসবের মাধ্যমে রফিকুলের স্ত্রীর ছেলে সন্তান ভূমিষ্ট হয়। এ হেন কর্মের জন্য কোন ঔষধ না দিয়েই রকিুলের কাছ থেকে স্বাস্থ্য কর্মী মায়া ৮ হাজার ২’শ টাকা দাবী করে। না দিলে রোগী নিয়ে বাড়ীতে যাওয়া যাবে না বললে নিরুপায় হয়ে ৭ হাজার ২’শ টাকা দিয়ে প্রতিবন্ধী রফিকুল তার স্ত্রী কে বাড়ী নিয়ে যায়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্বাস্থ্য কর্মী জানান, মরিয়ম বেগম (মায়া) প্রায় সময় হাসপাতালে ভর্তি প্রসুতী রোগীদের বাসায় মিনি হাসপাতাল বানিয়ে নিজেই চিকিৎসা দেয়, বিনিময়ে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। তার বিরুদ্ধে আরো একাধিক অভিযোগ রয়েছে। প্রায় ৭-৮ মাস আগে এ ধরণের একটি ঘটনায় স্বাস্থ্য কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ আসলে মরিয়মকে শোকোজ করা হয়। পরে এ ধরণের ঘটনা পূনরাবৃত্তি না ঘটনোর জন্য সতর্ক করা হয়। বক্তব্য জানার জন্য যোগাযোগ করা হলে মরিয়ম বেগম, এ ঘটনা কোথায় ঘটেছে তা আমি জানি না বলে ফোন কেটে দেন। পরে অনেকবার চেষ্টা করলেও সে ফোন রিসিভ করে নাই। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ জাকির হোসেন জানান, এ ধরনের কোন ঘটনা ঘটেছে বলে আমার জানা নেই।খোঁজ খবর নিয়ে স্বাস্থ্য কর্মী মরিয়ম বেগম মায়া দোষী হলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply