রাজনীতি

রায়পুরে সাবেক এমপি খায়েরকে হটিয়ে মহিলা কলেজের দায়িত্বে সতন্ত্র সংরক্ষিত এমপি সেলিনা ! 

নদী দখল করে ডাকাতিয়া নদীর প্রবাহ বন্ধ করে বালি ফেলে, জোট সরকারের আমলে স্থাপিত রায়পুর মহিলা কলেজ দীর্ঘ এক যুগের পরেও এমপিওভুক্ত ছাড়াই চলছে কলেজটি। বেসরকারি এই কলেজটির প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন বিএনপির  সাবেক সাংসদ ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আবুল খায়ের ভূইয়া। তবে এমপিওভুক্তকে টার্গেট করে রাজনৈতিক প্রভাবে খায়ের ভূইয়াকে হঁটিয়ে কলেজটির ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির পদ প্রথম বারের মতো ক্ষমতাশীন আঃলীগের নেতাদের কতৃত্বে। ইতোমধ্যেই কলেজটির দায়িত্বে লক্ষ্মীপুর -২(রায়পুর) আসনের সতন্ত্র  সাংসদ পাপুল এর স্ত্রী সংরক্ষিত আসনের সতন্ত্র সাংসদ সেলিনা ইসলাম এমপি।

লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলায় ২০০২ সালে মহিলা কলেজ প্রতিষ্ঠিত হলেও এখন পর্যন্ত তা এমপিওভুক্ত হয়নি। ফলে কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীরা আর্থিক সংকটে দিনযাপন করছেন। শিক্ষা অধিদপ্তরের নীতিমালা অনুযায়ী নারী শিক্ষার অগ্রগতি ও উন্নয়নের জন্য প্রত্যেক উপজেলায় অন্তত একটি করে মহিলা কলেজ প্রতিষ্ঠার বিধান থাকলেও বার বার আবেদন করলেও গত ১৭ বছরে এমপিওভুক্ত হয়নি এ কলেজটি। ফলে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে কলেজটির শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে।

সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, ২০০২ সালে ১ একর ১০ শতাংশ জমি নিয়ে স্থানীয় সাবেক সংসদ সদস্য আবুল খায়ের ভুঁইয়া পৌর শহরের নতুন বাজার এলাকায় কলেজটি প্রতিষ্ঠা করেন।

বর্তমানে কলেজটিতে ১৭ জন শিক্ষক-কর্মচারী ও অধ্যয়নরত ৬ শতাধিক ছাত্রী রয়েছে। ২০০৪ সাল থেকে ছাত্রীরা মাধ্যমিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে আসছে। পরীক্ষার ফলাফলে একাধিক জিপিএ-৫সহ পাসের হারও সন্তোষজনক।

রায়পুর মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ উম্মে হানী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক-কর্মচারীরা বিনা বেতনে চাকরি করে আসছেন। কলেজটি এমপিওভুক্ত না হওয়ায় শিক্ষক-কর্মচারীরা পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে।

নতুন গভর্নিং বডিতে বিদ্যুৎসাহী সদস্য হয়েছেন পৌর আঃলীগের আহবায়ক কাজী জামশেদ কবির বাক্কী বিল্লাহ সহ অনেক নতুন মুখ। এরই মধ্যে বিএনপিপন্থী সাবেক এমপি সহ তাদের অনুসারীরা বাদ পড়েছেন নতুনদের দাপটে।
রায়পুর মহিলা কলেজের সাবেক গভরর্নিং বডির সভাপতি এবিএম জিলানী নতুন কমিটির বিষয়ে জানতে চাইলে বলেন, আমি কমিটিতে নেই এছাড়াও সাবেক এমপি প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে আছেন কিনা তাও জানিনা।
রায়পুর মহিলা কলেজের নতুন বিদ্যুৎসাহী সদস্য কাজী জামশেদ কবির বাক্কী বিল্লাহ বলেন, কলেজ কতৃপক্ষ তাদের প্রয়োজনে আমাকে কমিটিতে অন্তভুর্ক্ত করেছেন। এছাড়াও সাংসদ সেলিনা ইসলাম নতুন সভাপতি হয়েছেন। কলেজের নতুন ভবন নির্মান সহ এমপিওভুক্ত করাই ওনার জন্য এখন বড় চ্যালেঞ্জ। কলেজটি বিএনপির সাবেক সাংসদ প্রতিষ্ঠা করলেও শিক্ষার বিষয়ে আমাদের নেত্রী জিরো টলারেন্স। আমাদের সকলের চেস্টায় বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনার হাত ধরেই কলেজটি এমপিওভুক্ত থেকে সরকারীকরণ করবো ইনশাআল্লাহ।
Attachments area
Previous ArticleNext Article

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *