জন্মের আগেই পিতার দু: সংবাদ

ANTV > জাতীয় > জন্মের আগেই পিতার দু: সংবাদ
জন্মের আগেই পিতার দু: সংবাদ

 

স্টাফ রিপোর্টার-জন্মের আগেই পিতার দু: সংবাদ! আসুন বন্ধুর শেষ যাত্রায় অংশ নেই।হায়াত ,মউত, রিজিক ,দৌলত ,আল্লাহ হাতে।বন্ধু ওবায়দর আমার সাথে যোগদান করা একজন পুলিশ অফিসার। বর্তমান কর্মস্থল পিবিআই, গাজীপুর তার বিপি নাম্বার৮১০৬১০৬১৮৯। তার লিভার ক্যান্সার সর্ব শেষ স্টেজ। স্কয়ার হসপিটাল এর টেস্ট করার পর অতি দ্রুত ভারতে চিকিৎসার জন্য গিয়েছিল। ভারতের হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কোন চিকিৎসা পদ্ধতি দিতে পারেনি। সিঙ্গাপুর আমেরিকার যোগাযোগ করা হয়েছে সেখানেও সাড়া মেলেনি। এ ধরনের অবস্থায় ডাক্তার যা বলার বলেছে ন। সে কথা মতোই তাকে এখন বাড়িতে রাখা হয়েছে।আল্লাহ তালা যা ভাগ্যে লিখেছে সেটা তো ঘটবেই। কিন্তু সেটি ভবিষ্যৎ ধারণা কি এমনই হবে? ওবায়দুলের ভাগ্যের অমানিশা জীবিত চিন্তায় মৃত্যুর অন্ধকার! কিভাবে জীবিত মানুষকে একটি দিন গুনতে পারে? এটা কি করে সম্ভব? চোখের সামনে কর্মরত একজন পুলিশ অফিসার কিভাবে চিন্তা করবে তার মৃত্যু জানাজা কবর এপার-ওপারের চিন্তা! কোন আশায় ঘুমাবে কোন আশায় সকালের নাস্তা করবে কোন আশায় দুপুরে গোসল করবে কোন আশায় দৃষ্টি মিলে পৃথিবীর দিকে তাকাবে। আশা নিরাশার ভেলা ডাক্তারের এই সংবাদ যেন তার কাছে একটি নিজের জীবন্ত লাশ। হাসপাতালে ভর্তি থাকলেও অন্তত একটি আশা থাকে। চিকিৎসাধীন রোগীকে কেউই জানায় না তার চিকিৎসার অবনতির খবর। কিন্তু মরণব্যাধি ক্যান্সার তার কাছে বসে আছে দিন ক্ষণ গুনছে সময় এবং ঘড়ির কাঁটা সব হিসেব করে দিচ্ছে।শুধু কি তাই 8 বছরের কন্যা সামিহা খান, তিন বছরের কন্যা রাইসা খান তার চোখের সামনে। তারা কিছুই বুঝতে পারছি না। নিজের এই সংবাদ নিয়ে কিভাবে দুটি মম শিশুর দিকে তাকাবে। তার স্ত্রী নিলুফার ইয়াসমিন কিভাবে শিশু দুটিকে সারাদিনের খাবার দিবে। তারা জানেও না তাদের বাবাকে আর কতদিন থাকতে পারবে। পৃথিবীর সমস্ত খেলায় ওবায়দুর এর মাথায় ভর করল। পরীক্ষার অসম্ভব ধৈর্য তার পরিবারকে কি নিতে হবে? এবং ওবায়দুরের চোখের সামনেই সেটা।

এতটুকুই সীমাবদ্ধ নয়। তার স্ত্রী নিলুফার ইয়াসমিন পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। পৃথিবীর কোন নারী অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় স্বামীর অসুস্থতার ডাক্তার থেকে এমন বাক্য শুনলে কেমন মনে হবে। এটা কি জীবদ্দশায় ভাবা যায়? পৃথিবীর সমস্ত জন জগদ্দল পাথরের মতো শুধু যদি ওবায়দুরের মাথায় বসতো সেটা না হয় সহ্য করা যেত। কিন্তু সেই একই ওজন তো নিলুফার ইয়াসমিনের ঘাড়ে ভর করেছে। সেই একই ভর তাদের শিশুকন্যা দুটির উপর ভর করেছে। সম পরিমান ওজন ভবিষ্যতের অনাগত শিশু সন্তান মাতৃগর্ভে থেকেই বহন করার সংবাদ পাচ্ছে! পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা নিলুফার ইয়াসমিন স্বামী হারা এদের চিন্তা করবে না স্বামীর দিকে তাকাবে না নিজে শ্বাস-প্রশ্বাস গ্রহণ করবে যে শ্বাস-প্রশ্বাস নিয়ে বেঁচে থাকবে তার অনুগত ভবিষ্যৎ সন্তান! চরম’ নিরঙ্কুশ, নিষ্ঠুর এক বাস্তবতার, কঠিন এক পরীক্ষার সম্মুখীন বন্ধুবর ওবায়দুর। যে পরীক্ষার ফলাফল শুধুই———!এতেই সমাপ্তি হলে তো কথা ছিল না! জীবন চলার তাগিদে যা-কিছু সঞ্চয় ছিল তার সহ বন্ধু-বান্ধব আত্মীয়-স্বজন ব্যাচমেটদের সহযোগিতা নিয়ে বিপুল অর্থ ইতিমধ্যেই বিফলে খরচ করে রিক্ত নিঃস্ব হতভম্ব?পরিবার-পরিজন আত্মীয়-স্বজন বন্ধুবান্ধব সবাইকে দেখতে পাচ্ছে কিন্তু কাহারো নিকট কিছু বলতে পারছে না। নিজের মধ্যে শঙ্কাহীন প্রতিটি ঘণ্টা চলছে শুধু হৃদয় কম্পনে। ভাগ্যে যা হবার সে নয় হতভাগার মতোই ঘটলো।কিন্তু পরের সময় একটি তার রেখে যাওয়া ইস্ত্রি শিশু দুটি কন্যা অনাগত ভবিষ্যৎ সন্তান কিসের উপর কোথায় কখন কিভাবে কার কথায় কার সাথে কার উপর ভর করে দাঁড়াবে? কোথায় পাবে অন্ন বস্ত্র বাসস্থান? কার কাছে জিজ্ঞাসা করবে একবেলা খাবারের? কিভাবে কোন স্কুলে যাবে? কিভাবে দুধ মিষ্টি খাবে? নাকি এই অসমর্থ কে বারবার প্রশ্ন করে বন্ধু অবায়দুর কে ডাকবে?অনেক উপন্যাস নাটক পড়েছি !বাংলা ইংরেজি হিন্দি সিনেমা দেখেছি! এমন বাস্তব করুণাময় কাহিনীর খন্ডিত দৃশ্য সেগুলোতে মনে পড়ে না। কিন্তু আজ চোখের সামনে একজন কাছের বন্ধুর দেহ মন স্ত্রী সন্তান এমনকি অনাগত ভবিষ্যৎ সন্তান সবার নিশ্চিত অন্ধকার আর মহা কান্নার রোল পৃথিবীর বাস্তবতা কে হার মানিয়ে গেল।একমাত্র আল্লাহ ঐ পারে সব কিছু সমাধান করতে। আর পারে আর পারে আল্লাহ যেসব আত্মীয়-স্বজন বন্ধু-বান্ধব পাশের মানুষ কে সৃষ্টি করেছেন।

ওবায়দুর বন্ধু জানিনা আমার এই লেখাটি কেউ পড়বে কিনা? আমি কথা দিচ্ছি তোমার অনাগত ভবিষ্যতের পাশে থাকব। আমার পুলিশের সকল ব্যাচমেটদের করজোড়ে অনুরোধ করছি বর্তমান কে বাঁচাতে না পারলেও সবাই এগিয়ে আসো একটি ভবিষ্যৎ কে বাঁচাই। আমার পরিচিত আত্মীয়-স্বজন বন্ধুবান্ধব যাদের সামর্থ্য আছে তাদেরকেও আহব্বান করছি আমার মত তার পাশে এসে দাঁড়ানোর। তার জীবদ্দশায় আমার আপনার একটু সহযোগিতা কিঞ্চিত হলেও তার মৃত্যুর আত্মতৃপ্তি হতে পারে।আসুন সবাই মিলে যে যার সামর্থ্য করে কিছু একটা করে দেই অবায়দুর কে দেখানোর জন্য। এ সহযোগিতা যেন একটি সব যাত্রার চির সঙ্গী হয়ে থাকবে।

Leave a Reply