লক্ষ্মীপুরের ঐতিহ্যবাহী বুড়াকর্তার মেলা

এএনটিভি | নিউজ ডেস্ক, প্রকাশিত: ১৬. ফেব্রুয়ারি. ২০১৯ , শনিবার

বাবলু বাংলা, ক্রাইম রিপোর্টার, লক্ষ্মীপুরঃ ১৫ দিনব্যাপী লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বুড়াকর্তার মেলা চলবে আগামী ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। দীর্ঘ ৯০ বছর যাবত রামগতি উপজেলার চরডাক্তার এলাকার বুড়া কর্তার আশ্রমে প্রতি বছরে এ মেলা অনুষ্ঠিত হয়। শ্রী শ্রী বুড়াকর্তার তিরোধান উপলক্ষে ১৫ দিনব্যাপী এ মেলার আয়োজন করা হয়। গত মঙ্গলবার (১২ ফেব্রুয়ারি) থেকে শুরু হয়েছে এ মেলা। মেলাকে ঘিরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে নানা ধরনের পণ্য নিয়ে হাজির হয়েছেন ব্যবসায়ীরা। ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে এ মেলা পরিণত হয় মিলন মেলায়। এ মেলা আগামী ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে বলে জানান আয়োজকরা। জেলার রামগতি উপজেলার চরডাক্তার গ্রামে বুড়াকর্তার আশ্রম নামে একটি মন্দির আছে, মন্দিরটি ১৩৩৬ বাংলা সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। বুড়াকর্তার পুরো নাম রাধা কান্ত স্বোহং স্বামীজী। তার নিবাস ছিল নোয়াখালী জেলার কল্যাণদি গ্রামে। মৃত্যুর পর তাকে লক্ষ্মীপুর জেলার চরমটুয়া গ্রামের ব্রাক্ষণ বাড়ির-দরজায় সমাধিস্থ করা হয়। নদী ভাঙ্গনের ফলে তার বংশধররা চরডাক্তার চলে আসে। ১৩৩৬ বাংলা সালে চরমটুয়া থেকে তার সমাধি চর আলকজান্ডারের চরডাক্তার গ্রামে নিয়ে আসা হয়। চর ডাক্তার গ্রামে বুড়াকর্তার আশ্রমে রাধাকান্ত হংস স্বামীজির মৃত্যু দিবস উপলক্ষে বুড়া কর্তা মেলা ও কীর্তন অনুষ্ঠিত হয়। কয়েকজন ভক্ত ওই আশ্রমে লীলা র্কীতন ও প্রসাদ বিতরণ শুরু করে। ধীরে ধীরে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ে অন্যান্য জেলায়। এখন ওই স্থানে নোয়াখালী, ফেনী ও লক্ষ্মীপুর জেলার হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনও লীলা কীর্তন শুনতে আসেন। এসব মেলায় মিষ্টি, খেলনা, বাঁশ-কাঠ এবং বেতের তৈরী সামগ্রী স্থান পায়। এ মেলা উপলক্ষে দূরদূরান্ত থেকে বহু লোকের সমাগম ঘটে। ভোলা বরিশাল থেকে লোকজন মেলায় অংশগ্রহণের জন্য আসে। এছাড়া রামগতি উপজেলার রামগতি বাজরে একটি মন্দির আছে। বাজার সংলগ্ন দক্ষিণ পাশে বাণী মোহন সাহা, ভবানী মোহন সাহা এ মন্দির প্রতিষ্ঠা করে। বিভিন্ন দিবসে এখানে পূজা অর্চনা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিবছর ফেব্রুয়ারি মাসের মাঝামাঝি থেকে শুরু করে ১৫ দিন চলে এ মেলা। এতে আশ্রম প্রাঙ্গণ হাজার হাজার হিন্দু-মুসলিমের মিলন মেলায় পরিণত হয়। মেলাকে ঘিরে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পণ্য নিয়ে এখানে আসেন বিক্রেতারা। ইতোমধ্যে শতাধিক স্টোর বসেছে মেলায়। এতে শিশুদের খেলনা, মাটির তৈরি হাড়ি পাতিল, প্লাস্টিক সামগ্রী, গৃহস্থালী জিনিসপত্র, আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন পণ্যসামগ্রী এবং রকমারি খাবার পাওয়া যায়।