মৌচাষী গহীর আলী

এএনটিভি | নিউজ ডেস্ক, প্রকাশিত: ০৪. জানুয়ারি. ২০১৯ , শুক্রবার

আব্দুল্লাহ আল মারুফ সিরাজগঞ্জ (কামারখন্দ) প্রতিনিধি :
পড়ন্ত বিকেল।সূর্য ডুবো ডুবো। বিশাল সরিষা মাঠের এক পাশে কিছু মৌমাছির বাক্স।বাক্সের কোনটাতে লেখা আছে রাণীর সেল,নতুন রাণী,কয়েক রকমের বাক্স।  পাশে যাযাবরদের মতো একটা তাবু। তাবুর পাশেই বসা মাঝ বয়সী একজন লোক। জিজ্ঞেস করলাম আপনিই কি এই মোমাছি চাষ করেন? বললো জ্বি। বাড়ির কথা জিজ্ঞেস করতেই বললো,উল্লাপাড়ার ঝিকিড়ায়। কতদিন হল এ পেশায় আছেন এ প্রশ্নের উত্তরে বললো, তাও তো প্রায় দশ বছর। এ পেশাতে কিভাবে আসলেন জিজ্ঞেস করলে,গহীর আলী বললেন আমাদের গ্রামের একজন আগে মৌমাছি চাষ করতো। তার খামারে কয়েকদিন কাজ করলে মনে হল যে এ কাজ করা যাবে। সেখান থেকেই এ পেশায় তার হাতেখড়ি। তার পর সিরাজগঞ্জের বিসিক অফিস থেকে সাতদিনের একটি মৌলিক প্রশিক্ষণ নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে মৌচাষি হিসেবে আত্নপ্রকাশ করেন গহীর আলী। মৌচাষের কিছু তথ্য জিজ্ঞেস করলে জানালো, আমরা সরিষার মৌসুমে সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন জায়গা দিয়ে মৌসুম পার করে। এরপর রান্ধুনী,কালোজিরা,ধনিয়ার মৌসুমে আমরা যাই শরীয়তপুর,মাদারীপুর। লিচুর মৌসুমে দিনাজপুর। ফুলের মৌসুম শেষ হলে বাক্স ঘরে রেখেই চিনির শরবত দিয়ে সময় পার করে। তখন মধুর উৎপাদন খুব কম হয়। দীর্ঘ সময় কথা বলার ফাকে গহীর আলী জানালো,আমাদের জন্য সরকার খুব গুরুত্ব দিছে কিন্তু অফিসাররা ভাল না। সরকার আমাদের (মৌচাষি) জন্য বাক্স,ধোয়াদানি,গ্লাভস,পোশাক ও মধু আহরণের মেশিন দিছে। কিন্তু কৃষি মন্ত্রণালয় আমাদের পেশাকে সরিষা চাষী লেখায় আমরা এই সরঞ্জামগুলো পাবো না। কারণ আমরা মৌচাষী। এইটা বলে একটু মুচকি হাসলেও তার হাসির মধ্যে ছিল আক্ষেপের প্রতিচ্ছবি। মধু দেখতে চাইলে গহীর আলী মগে করে মধু খেতে দেয়। মধু পান করে প্রস্থান করলাম গহীর আলীর খামার থেকে। ভাল থাকুক গহীর আলী ও তার খামার।