গঙ্গাচড়ায় ভাসমান বেঁদে সম্প্রদায়  রমজানে কেমন যাচ্ছে তাদের দিনগুলি …

এএনটিভি | নিউজ ডেস্ক, প্রকাশিত: ২২. মে. ২০১৯ , বুধবার

এম ,এম মনির গংগাচড়া (রংপুর) প্রতিনিধি:
 সৃষ্টি কর্তা  মানুষকে সৃষ্টি করেছেন শ্রেষ্ঠ জীব হিসেবে। কিন্তু এই মানুষের মধ্যেই কত না  জাত !আমাদের দেশে বাস করে ।আমাদের দেশে ,আমাদের সমাজে ,কেউ স্থায়ী ভাবে কোন জায়গায় বসবাস করে কেউ ভবঘুরে যেখানেই রাত সেখানেই কাত ।
এমনই একদল মানুষ ঢাকা জেলার সাভার থানার পোড়াবাড়ি গ্রামের ,       একএে কয়েকটি বেঁদে পরিবার ।প্রায় ১৮ দিন আগে তাঁবু গেড়েছে গংগাচড়া উপজেলার ডিগ্রি কলেজ সংলগ্ন পার্শ্ববর্তী খোলা আকাশের নিচে ধান ক্ষেতের পাশে । ঘড়িতে বেলা দেড়টা এমন সময় দেখা গেল ভাসমান এই সম্প্রদায়ের পরিবারের ছোট শিশু গুলি কেউ কা কাঁদছে কেউ খেলতেছে ।
 মহিলা সদস্যরা রান্নার কাজে ব্যস্ত অপরদিকে পুরুষ সদস্যরা বসে বসে সময় কাটাচ্ছেন  আর ভাবছেন সামনের দিনগুলি কেমন যাবে ! এমন অবস্থায়  এই প্রতিবেদককে দেখে হতচকিয়ে ওঠেন  , ভাবেন কোন সংস্থা র কর্মকর্তা  বুঝি কোন সহযোগিতা দেবেন  , কিন্তু সাংবাদিক পরিচয় দিলে  শুরু করেন দুঃখ-বেদনার অবর্ণনীয় কথা ।
এমননি একজন মোহাম্মদ খানু মিয়া সরদার (৫২)আট সন্তানের জনক চার সন্তানের বিয়ে দিয়েছেন । এই রমজান মাসে রোজা করছেন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করেন । আয় উপার্জনের কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন ,রমজান মাস কাজ নেই আয়ও নেই ,তাবিজ কবজ বিক্রি তেমনটা হয় না সাপের খেলা দেখালেও মানুষ ততটা চাল ডাল টাকা পয়সা দেন না ।খুব কষ্টে আছি ।রমজান ছাড়া অন্যান্য দিনে দুই তিন শত টাকা হয় যা দিয়ে সংসার চলে না ।
স্ত্রী রাশিদা খানম  (৪৫)রান্নার কাজ ফেলে এসে বলেন ,আমি সিংগা বসাই তাবিজ বিক্রি করি এখন রমজান মাস তাই কাজ নেই ।অপরদিকে মোহাম্মদ দেলোয়ার সরদার(৩ 9) সাপুরিয়া জানান ,ভাই যদি কিছু সহযোগিতা দিতে পারেন তাহলে উপকার হইত ।আমরা এই ভাবে থাকি বিধায় কেউ কোনো সাহায্য করেন না অনেকেই আমাদের কাছে আসেন ,দেখেন আবার চলে যান ।
খানু মিয়া সরদার আরও  জানান ,পূর্বপুরুষের এই পেশা আমরা ছাড়তেও পারি না ,আগে নৌকায় করে  নদীপথে চলাচল করতাম এখন সেই সুযোগ নেই।  ছোট শিশুদের পড়ালেখার কথা জানতে চাইলে বলেন ,আত্মীয় স্বজনদের কাছে রাখি মাঝে মাঝে তারাই পরান গ্রামে থাকা অবস্থায় স্কুলে যায় ।এরপর এখান থেকে কোথায় যাবেন জানতে চাইলে বলেন ,সিদ্ধান্ত হয় নাই তবে আরও চার পাঁচ দিন এই খানে থাকবো  ।
আমাদের দেশের  ক্ষুদ্রএই সম্প্রদায়ের মৌলিক অধিকার খাদ্য বস্ত্র বাসস্থান শিক্ষা চিকিৎসা ইত্যাদি দেখভাল করার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সহ সচেতন সকলের বলে মনে করেন এই মানুষগুলি ।মানবতার খাতিরে এই সম্প্রদায়ের মানুষের জীবনে আশার প্রদীপ  জ্বালাতে এগিয়ে আসতে  হবে বলেও মন্তব্য করেন কয়েক জন উপস্থিত দেখতে আসা মানুষ।