ঢাকা

ফুটপাত দখলে, কমছে হাঁটার গতিও

মোঃ দীনইসলাম:

গতিশীল ঢাকা তার গতি হারিয়েছে নানা কারণে। যেখানে ২ বছর আগেও ঢাকার গড় গতি ছিল প্রতি ঘন্টায় ২১ কিলোমিটার। সেখানে বর্তমানে ঢাকার গড় গতি ৩.৭ কিলোমিটার। অথচ ঢাকায় মানুষের হেঁটে চলার গতি প্রতি ঘন্টায় গড়ে পাঁচ কিলোমিটার। মেন্ট্রোরেল সহ ঢাকাকে ঘিরে নানা উন্নয়ন কাজের জন্য রাজধানীতে পরিবহনে চলাচলের গতি হতাশাজনক ভাবে কমে গেছে। আবার কমে গেছে ঢাকার মানুষের হেঁটে চলার গতিও। আর এর কারণ খুঁজতে গিয়ে পাওয়া গেছে ফুটপাত দখলের মত ভয়াবহ দূর্নীতি। ঢাকার মূল সড়কের পাশে জনসাধারণের হেঁটে চলার জন্য তৈরি করা হয়েছে ফুটপাত। তিন থেকে পাঁচ ফুট চওড়া এসব ফুটপাতের মাঝখানে হলুদ টাইলস বসানো হয়েছে প্রতিবন্ধীদের চলাচলের জন্য। প্রতি বছর ফুটপাতের টাইলস বদলানো এবং সৌন্দর্য বর্ধনের নামে কোটি টাকা খরচ করছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। এখন প্রশ্ন উঠেছে কোটি টাকার টাইলস বসানো এই ফুটপাত যাদের জন্য তৈরি করা হয়েয়ে অর্থাৎ জনসাধারণ ও প্রতিবন্ধীরা কতটুকু ব্যবহার করতে পারছেন? সরজমিনে ঢাকার বিভিন্ন ফুটপাত ঘুরে দেখা যায়, মিরপুর, মোহাম্মদপুর, উত্তরা, পল্টন, গুলিস্থান, মতিঝিল, পুরান ঢাকার আদালত পাড়া সহ ঢাকার বিভিন্ন সড়কের ফুটপাত দখল করে রেখেছে ব্যবসায়ীরা। জানা গেছে, যে সকল ব্যবসায়ী এসব ফুটপাত দখল করে আছে তারা দৈনিক হারে চাঁদা দিচ্ছেন স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা ও পুলিশকে। ঢাকার মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্ত্বরের পাশে রয়েছে বিশাল ফুটপাত। ফুটপাত চলাচলের জন্য হলেও ফুটপাতের বেশির ভাগ দখল করে বসানো হয়েছে কাপড়, বই ও জুতার দোকান। স্থানীয়দের অভিযোগ, ফুটপাত ব্যবসায়ীদের দখলে থাকার কারণে তাদের চলাচলের ক্ষেত্রে বেশ ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দা মামুনুর রহমান বলেন, ‘এই সমস্যা তো আজ থেকে না। অনেক পুরনো। ফুটপাত নাকি হাঁটার জায়গা, কোথায় আমরা তো হাটতে পারি না। হাঁটার জায়গা থাকে না।‘ মিরপুর এলাকার বাসিন্দা ওয়াহিদুল হাসান বলেন, ‘যারা দেখবে তারাও টাকার কাছে জিম্মি। নইলে তারাও তো রাস্তায় বের হয়। তাদেরও তো এটা চোখে পরে। সমাধান করে না কেন?’ অথচ এই ফুটপাতের পাশেই রয়েছে সিটি করপোরেশনের আঞ্চলিক অফিস। যেখানে ঢাকার ফুটপাতের তদারকি ও উন্ননের কাজ সিটি করপোরেশনের হাতে, সেখানে খোদ সিটি করপোরেশন অফিসের সামনের ফুটপাত হকারদের দখলে থাকার ঘটনা উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। এধরনের এই চিত্র দেখা গেছে রাজধানীর ফার্মগেট, মোহাম্মদপুর বসিলা নতুন রাস্তা, রিংরোড, শ্যামলি, মিরপুর-১ নম্বর, উত্তরা আব্দুল্লাহপুর এলাকায়। এসব জায়গায় হকারদের দোকান বসাতে এক থেকে তিন হাজার টাকা পর্যন্ত এক কালিন দিতে হয় স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের। এছাড়া দৈনিক একশো থেকে তিনশো টাকা পর্যন্ত গুনতে হচ্ছে এসব হকারদের। টাকা পাচ্ছে স্থানীয় থানা পুলিশ ও ট্রাফিক বিভাগের কর্মকর্তারাও। প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতাদের আয়ের পথ তৈরি করতে গিয়ে হাঁটার রাস্তা হারিয়ে ফেলছে নগরবাসী। চোখের সামনে এমন অরাজকতা ঘটলেও যেন তা দেখার কেউ নেই।

Previous ArticleNext Article
Head Of News Alokito News TV Mob:01768127706/01643009156 E-mail:alokitonewstv@gmail.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *