নৌনিরাপত্তা সপ্তাহ

এএনটিভি | নিউজ ডেস্ক, প্রকাশিত: ৩১. মার্চ. ২০১৯ , রবিবার

অভ্যন্তরীণ নৌপথে যাত্রী নিরাপত্তাসহ নির্ঝঞ্ঝাট পণ্য পরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ৩০ মার্চ থেকে ৫ এপ্রিল পর্যন্ত ‘নৌনিরাপত্তা সপ্তাহ ২০১৯’ পালন করছে। এবারের প্রতিপাদ্য হচ্ছে ‘দূষণ, দখলমুক্ত করি, নৌযাত্রা নিরাপদ করি, বিশ্বমানের নৌ ব্যবস্থার স্বপ্নকে সফল করি’। উল্লেখ্য, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে নৌপরিবহন অধিদফতর নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে ২০০৯ সাল থেকে দেশে নৌনিরাপত্তা সপ্তাহ পালন করছে। বলার অপেক্ষা রাখে না, প্রাচীনকাল থেকে দেশের নদীপথগুলোই ছিল পণ্য ও যাত্রী পরিবহনের প্রধান মাধ্যম। সময়ের বিবর্তনে যোগাযোগ ও যাতায়াতের ক্ষেত্রে উড়োজাহাজ, রেলগাড়িসহ ইঞ্জিনচালিত বিভিন্ন যানবাহনের আবিষ্কার ও ব্যবহার, সর্বোপরি দেশের অধিকাংশ নদ-নদীর জীর্ণ-শীর্ণ অবস্থা নৌপরিবহনের গুরুত্বকে অনেকাংশে ম্লান করেছে। তবে এ কথা সত্য, আগে পালতোলা নৌযানের চলাচলে মাঝিমাল্লাদের শারীরিক শ্রম ও কসরতের বিষয়টিই ছিল মুখ্য। বর্তমানে দেশের নৌপরিবহন ব্যবস্থায়ও লেগেছে আধুনিকতার ছোঁয়া। বর্তমানে ইঞ্জিনচালিত ছোটবড় নৌযানগুলো অনেক বেশি গতিশীল, সুরক্ষিত ও আরামদায়ক।
এ বছর নৌনিরাপত্তা সপ্তাহ পালিত হচ্ছে এমন একটা সময়ে, যখন সরকার বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, কর্ণফুলী ও বালুনদীসহ বিভিন্ন নদ-নদী দখল ও দূষণমুক্ত করার কার্যক্রম জোরদার করেছে। তবে এক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে- দখল ও দূষণমুক্তকরণই শেষ কথা নয়; পণ্য ও যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে নৌপথে দুর্ঘটনা কমিয়ে আনার পদক্ষেপও নিতে হবে। নৌপথে দুর্ঘটনার কারণগুলো চিহ্নিত করার লক্ষ্যে পরিচালিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে ত্রুটিপূর্ণ নৌযান, মাস্টার-চালক ও ইঞ্জিন অপারেটরের অদক্ষতা, অতিরিক্ত যাত্রী ও মালামাল বহন, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থার অভাব, বায়ুপ্রবাহ ব্যবস্থা না থাকাসহ আবহাওয়া আইন অমান্য করার কথা বলা হয়েছে। সেই সঙ্গে রাত্রিকালীন চলাচলের অনুপযোগী নৌযানগুলোর রাতে চলাচল করা, নকশা অনুযায়ী নৌযান নির্মাণ না করা এবং যাত্রী সাধারণের অসচেতনতাকে দায়ী করার পাশাপাশি দুর্ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন বাস্তবায়ন সম্পর্কে উদাসীন থাকাকে নৌদুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হিসেবে উলেখ করা হয়েছিল। দেশের নৌপথ নিরাপদ ও স্বচ্ছন্দময় করতে এসব সুপারিশ বাস্তবায়নের পাশাপাশি সরকার নদ-নদী দখল ও দূষণমুক্ত করার অভিযান জোরদার করবে, এটাই প্রত্যাশা।