দাঁতের রুট ক্যানেল আসলে কি? রুট ক্যানেল করালে কি দাঁত ফেলে দিতে হয়?

এএনটিভি | মো: ওয়াহিদুর রহমান মুরাদ, প্রকাশিত: ১৯. মে. ২০১৯ , রবিবার

 সহজ ভাষায় মৃত/মৃতপ্রায় দাঁতকে চিরতরে মেরে ফেলাকে বলে রুট ক্যানেল। মানে হল দাঁতটা না ফেলে ওটার অবশিষ্ট nerve/মাড়ির সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দাঁতটাকে না ফেলে মুখে রেখে দেয়া হয়। আগে অনেক কষ্ট হত, এখনও হয় তবে কিছুটা কম। খুব বড় কোন অনিয়ম না করলে যেমন অনেক জোরে হাড়/পেয়াড়া চিবিয়ে খাওয়া টাইপ কাজ না করলে দাঁত রয়ে যাবে। আর যদি ফিলিংও করাতে হয় তাহলে রুট ক্যানাল ও ফিলিং এর পর দাঁতে “ক্যাপ” করে দিবে ডেন্টিস্ট। তবে মনে রাখবেন ওটা যেহেতু মৃত দাঁত, পড়ে গেলে আপনাকে হয়তো নকল দাঁত লাগাতে হতে পারে।
Root Canal Treatment (RCT):
অনেক কারণেই দাঁতের ভেতরে থাকা পাল্প বা দন্তমজ্জা নষ্ট হতে পারে। তবে সবচেয়ে বড় কারণ, ক্যারিজ বা দাঁতের ক্ষয়রোগ হওয়ার পর সেটি ফিলিং বা চিকিৎসা না করে দীর্ঘদিন ফেলে রাখা। মনে রাখতে হবে, দাঁতেরও কিন্তু রক্ত ও নার্ভ সাপ্লাই আছে। দাঁতেরও নিউট্রিশন প্রয়োজন। যখন কোনো কারণে সেই পাল্প নষ্ট হয় তখন
সেখানে ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ করতে পারে। এই সংক্রমণের কারণে তীব্র ব্যথা তো বটেই; আরো কিছু অসুখও হতে পারে। পাল্প ইনফেকশন হয়ে সাধারণত কিছুদিন পরই দাঁতের শিকড়ের দিকটি ফুলে যায়, পুঁজ বের হয়। আর এ অবস্থা হলে রুট ক্যানাল ট্রিটমেন্ট ছাড়া দাঁত রক্ষার অন্য কোনো উপায় থাকে না।
ট্রিটমেন্টে আসলে যা করা হয় তা হচ্ছে দাঁতের মধ্যে থাকা নষ্ট হয়ে যাওয়া পাল্পকে বের করে আনা হয় বিশেষ রকমের কিছু ইনস্ট্রুমেন্ট দিয়ে। এটি ব্রচ নামে পরিচিত। এরপর দাঁতের পাল্প চেম্বার ও দাঁতের রুটের ভেতরে থাকা ক্যানাল বা ক্যানালগুলো পরিষ্কার করতে হয় রিমার, ফাইল- এগুলোর সাহায্যে।
এরপর পরিষ্কার করা ও জীবাণুমুক্ত করা রুট ক্যানাল সিল করে দেওয়া হয় গাটা পার্চা দিয়ে। আর সঙ্গে সিলার (দাঁতের ভেতরের ক্যানালকে কৃত্রিম পদার্থ দিয়ে ভরাট করতে যা গাটা পার্চার সঙ্গে ব্যবহার করতে হয়) হিসেবে ব্যবহার করা হয় বহু ধরনের সিলার। যেমন, ক্যালসিয়াম হাইড্রক্সা ইডসমৃদ্ধ সিলার, রেসিন বেসড এএইচ, জিংক অক্সাইড ইউজেনল ইত্যাদি। এমনভাবে সিল করতে হয়, যাঁতে পরে দাঁতের বাইরে থেকে বা ভেতর থেকে কিছুতেই জীবাণু রুট ক্যানালে ঢুকতে না পারে।
এরপর ফিলিং দিয়ে দাঁতের গর্ত ভরাট করে দেওয়া হয়। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই রুট ক্যানাল করা দাঁতটিতে কৃত্রিম ক্রাউন বা ক্যাপ বসাতে হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে অনলে, ইনলে ইত্যাদিও বসানো হয়।
আর পুরো কাজটি সফলভাবে করতে হলে অটোক্লেভ করা যন্ত্রপাতি ব্যবহার করতে হয়। সাধারণত ডাক্তারের কাছে এ ট্রিটমেন্টটির জন্য তিন থেকে চারবার যেতে হয়। ক্ষেত্রবিশেষে এক দিনেও চিকিৎসাটি যেমন করা সম্ভব তেমনি বহু সিটিংও লাগতে পারে- এটিও মাথায় রাখতে হবে।
রুট ক্যানাল করা দাঁতটি মরে যায় কীনা এই প্রশ্নটি নিয়ে খানিকটা বির্তক আছে। তবে এখন বিজ্ঞানীরা বলছেন, না, রুট ক্যানাল করা দাঁত মানেই মৃত দাঁত নয়। এটিতে যদিও রক্ত ও নার্ভ সাপ্লাই থাকে না; তবে এটি পেরিওডন্টাল লিগামেন্ট থেকে খানিকটা নিউট্রিশন বা খাবার সাপ্লাই পায়।
পরামর্শ প্রদান
মোঃওয়াহিদুর রহমান মুরাদ
দন্তপ্রযুক্তিবিদ
রায়পুর ডেন্টাল ক্লিনিক।